লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
পিঁপড়া ও অহংকারী হাতি

পিঁপড়া ও অহংকারী হাতি

কৌশিক সূত্রধর

এক বনে বাস করতো বিশাল একটি হাতি। হাতিটা যেমন ছিলো উঁচু তেমন ছিলো তার গায়ের জোর। সে তার শক্তির উপর অনেক অহংকার করতো। সে ভাবতো এই বনে তার চেয়ে শক্তিশালী প্রাণী আর দুটো নেই। এই বলে হাতিটা প্রায়সই অট্টহাসি হাসতো। আর বনের অন্যান্য প্রাণীরাও তাই মেনে নিতো। তারা সবসময় বলতো, সত্যিতো হাতির মত শক্তিশালী প্রাণী এই বনে আর কোথায় আছে? এই বলে বনের সকল প্রাণীরা হাতিটাকে বাহবা দিতো। এইভাবে চলে যায় কিছুদিন। একদিন হাতিটার হঠাৎ প্রচন্ড ক্ষুধা লেগে যাওয়ায় সে খাবার খুঁজতে বনের একটু গভীরে চলে গেলো। সে বনের গভীরে গিয়ে একটি কলা গাছ দেখতে পেয়ে তা খাওয়ার জন্য গাছটির দিকে এগিয়ে গেলো। হাতিটা তার শুঁড় দিয়ে কলা গাছটিকে উপড়ে ফেলতে যাবে, এমন সময় সে দেখতে পেলো কলা গাছটির পাতার উপর একটি পিঁপড়া কোথা থেকে যেন একটা ছোট মিষ্টির টুকরো তার মুখে করে নিয়ে কলা গাছের পাতায় হাটছে। পিঁপড়াটার মিষ্টির টুকরোটা বহন করতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো। তাই দেখে হাতিটা বলল, কি হে পিঁপড়া বন্ধু এই সামান্য মিষ্টির টুকরোটা বহন করতে তোমার দেখি জান বের হয়ে যাচ্ছে…! আমাকে দেখো আমি এই বনের সব থেকে শক্তিশালী প্রাণী, আমি চাইলে এই বনের সকল গাছ উপড়ে ফেলতে পারি। এই বলে হাতিটা অহংকারের হাসি হাসতে লাগলো।

এমন সময় পিঁপড়াটা বলল, হাতি বন্ধু তুমি শুধু নিজের আকারটাই দেখলে আমার আকারটা দেখলে না? আমি যে মিষ্টির টুকরো টা বহন করছি সেটা আমার দেহের উজনের থেকে প্রায় বিশগুণ বেশি ভারি। তুমি কি সেটা জানো? হাতিটা তখন হাসতে হাসতে বলল, আরে ধুর এটা আবার জানার কী আছে! এটা আমার কাছে কোন ব্যাপারই না। এমন সময় পিঁপড়াটা বলল, আচ্ছা হাতি বন্ধু তুমি কি পারবে নিজের থেকে বিশ গুণ বেশি ওজন বহন করতে? হাতিটা অহংকারে অন্ধ হয়ে বলল, কেনো পারবো না! অবশ্যই পারবো। পিপড়াটা তখন বলল, আচ্ছা তবে দেখাও তোমার শক্তি, হাতিটা বলল, আচ্ছা দেখো তবে আমার ক্ষমতা… এই বলে হাতিটা একটা দুটো করে বনের বড় বড় চারটি গাছ তার শুঁড় দিয়ে উপড়ে ফেলে তার পিঠের উপর রাখলো যা হাতিটার উজনের তিন গুণও নয়। হাতিটা আরও দুটি গাছ উপড়ে তার পিঠের মাঝে রাখলো। এবার হাতিটার এতগুলো গাছ একসাথে পিঠে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। পিঁপড়াটা তখন বলল, কি হাতি বন্ধু নিজের উজনের থেকে মাত্র পাঁচ গুণ উজন বহন করেই তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়লে? এই নিজেকে শক্তিশালী ভাবো? হাতিটা তখন বলল, আমি এখনো হার মানিনি আমি আরও উজন বইতে পারবো.. এই বলে হাতিটা আরও তিনটি গাছ পর পর উপড়ে ফেলে তার পিঠের মাঝে রাখলো। এবার হাতিটার পুরো বেহাল দশা হলো। নিজের ওজনের থেকে মাত্র সাত গুণ উজন বহন করতেই হাতিটার অবস্থা পুরো বেগতিক। তবুও পিঁপড়ার সাথে জিদ ধরে যেই আরেকটা গাছ উপড়ে নিজের পিঠে রাখবে, ঠিক তখন হাতিটা আর উজন বহন করতে না পেরে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলো.. সাথে সাথে হাতিটার পিঠের উপরে থাকা গাছ গুলোও তার উপরেই চাপা পড়ে গেলো। তাই দেখে পিঁপড়াটা হাসতে হাসতে বলল, বন্ধু নিজের শক্তি এবং আকার নিয়ে কখনো অহংকার করতে নেই। আমি নিজের ওজনের থেকে প্রায় বিশ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারি, তবুও আমি কখনো নিজের শক্তির উপর অহংকার বা বড়াই করি না। আর তুমি নিজের শক্তি ও আকারের উপর এত অহংকার করো বলে আজ তোমার এই দশা হলো। এই বলে পিঁপড়াটা মিষ্টির টুকরোটা নিয়ে তার বাসায় চলে গেলো। এরপর অহংকারী হাতিটা তার সব ভুল বুঝতে পারলো। এখন সে আর নিজের শক্তি এবং আকার নিয়ে কখনোই বড়াই বা অহংকার করে না। আর পিঁপড়ার এমন গুণ দেখে বনের সকল প্রাণীগুলো এবার পিঁপড়াকে বাহবা দিতে লাগলো।

মির্জানগর, মানিকগঞ্জ

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme