লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
পাখির প্রতি ভালোবাসা

পাখির প্রতি ভালোবাসা

মিনহাজ উদ্দীন শরীফ

তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্র অর্পণ ও দর্পণ যমজ দু’ভাই। তাদের জন্ম মামার বাড়িতে মধুমাসের প্রথম দিকে। তাদের বাবা প্রধান শিক্ষক গ্রামের একটা প্রাইমারী স্কুলের; মা গৃহিণী। বাবা দিনের বেলা বেশিক্ষণ সময় স্কুলে থাকে। মা বাড়িতে টুকটাক কাজ শেষ করে টিভি দেখতে বসে যায়। অর্পন খুব ট্যালেন্ট এবং ক্লাসের ফার্স্ট বয়। দর্পণ ক্লাসের লাষ্ট বয় হলেও ইংলিশে খুব স্মার্ট অর্পণের থেকেও। দু’ভাইকে নিয়ে তাদের মা-বাবা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বুনে যায় মনে। অর্পণ লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুল গাছে পানি দিতে পছন্দ করে। দর্পণ বিড়াল নিয়ে মাঠে খেলা করতে ও মাকে সাহায্য করা পছন্দ করে। দু’ভাই মিলেমিশে থাকতে খুব পছন্দ করে। মাঝেমধ্যে আবার ঝগড়াও করে। তবে কিছুক্ষন পর মিলে গলাগলি করে। একদিন দুপুরবেলা তারা দু’জন হাটে যাওয়ার পথে দেখে একজন লোক কবুতর ধরার জন্য ফাঁদের উপরে ছোট্ট ছোট্ট শস্য দানা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

অর্পণ ও দর্পণ একটু কাছে গিয়ে দেখে ঐ ব্যক্তি শিকারী। আর বেশ কয়েকটা পাখি ধরে খাঁচায় রেখেছে। এইসব নিরীহ পাখিদের বন্দি দেখে তাদের চোখে জল টলটল করতে লাগলো। সাহস করে অর্পণ ও দর্পণ শিকারীকে বলল, আপনি ক্যান এইসব অসহায় পাখিদের ধরেন? উনি বলে, এটা আমার পেশা ও নেশা বাপুরা! তোমারা এখন যাওতো অযথা প্যাচাল করার সময় নাই। দূরে যাও কবুতরের ঝাঁক আসছে। তোমাদের দেখলে আর আসবে না। তারা বলে, চাচা পাখিদের এভাবে ধরবেন না। ওদের ছেড়ে দিন ঐ দেখুন খাঁচার পাখিগুলো উড়ার জন্য ছটফট করছে। শিকারী বিরক্ত হয়ে বলে এখন তোমরা যাও। তারা বললো, চাচা আমরা চলে গেলে পাখিরা তো আপনার হাতে বন্দি হবে। চাচা আপনি জানেন না? পাখি ধরা অন্যায়! কে কইছে তোমাদের এইসব আজাইরা কথা? চাচা আমাদের পাঠ্যবই আছে। পাঠ্যবই আবার কিসের নাম? তারা বলে, আপনি পাঠ্যবইও চেনেন না? ওহ! বুঝেছি আপনি তাহলে মূর্খ লোক। আর ‘মূর্খ মানুষতো পশুর সমতুল্য’। তাই আপনি পশুত্বের মতো কাজ করছেন। এই কথা শুনা মাত্র শিকারী মাথা নত করে বলে, বাবারা তোমরা এইসব কথা কোথায় থেকে জানলে? তারা বলল, আমরা স্কুলে গিয়ে যে বই পড়ি সেটা থেকে। শিকারী অশ্রুভেজা চোখে বলে, আর কিতা কিতা আছে একটু কও তো খোকারা? তারা বলল, চাচা বইয়ে লিখা আছে। বনের পাখি খাঁচায় ভরে না রাখতে। কারণ ‘বনের পাখি বনেই সুন্দর’ মানায়। এছড়া পাখিরা ময়লা আবর্জনা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

যেমনঃ কাক; শকুন; ঈগল; না থাকলে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে আমাদের পরিবেশ নষ্ট হতো এবং রোগ-জীবাণু মানবকূলে বিঘ্ন ঘটাতো। এতে মানুষের বেঁচে থাকতে কষ্টসাধ্যও হতো। এতো মূল্যবান কথা এতটুকু বাচ্চাদের মুখে শুনে শিকারী কেঁদে কেঁদে বলে, আজ যদি আমার ছেলেকে পড়াতাম তাহলে সে আমাকে অনেক আগেই এমন পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিতো। যাইহোক, তোমরাওতো আমার ছেলের মতো। তোমাদের থেকে আমি শিক্ষা পেয়েছি। বাবারা আমি আমার ভুল বুঝতে পারছি।

সত্যিইতো এইসব পাখিদের খাঁচায় মানায়না বনেই পাখিদের সুন্দর মানায়। এই প্রথম কাউকে ওরা পরামর্শ দিয়ে অসৎপথ থেকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনলো, তাই ওরা আনন্দে আত্মহারা! হাততালি দিয়ে বলতে লাগলো, চাচা খাঁচার পাখিদেরও মুক্তি দিন। ওদের কথামতো বন্দী পাখিদের মুক্ত করে দিলো। এরপরথেকে ঐ শিকারী এমন কাজ আর কখনো করেনি। বরং কাউকে দেখলে অর্পণ ও দর্পণের মতো বুঝিয়ে দিতো। এইজন্য পাখিরা এখন আকাশে স্বাধীনভাবে উড়তে পারে। কেউ আর বন্দী করে রাখে না।

দশম শ্রেণি,
জলসুখা কৃষ্ণ গোবিন্দ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়।
আজমিরিগঞ্জ; হবিগঞ্জ; সিলেট।

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme