লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
এ যুগের মুসলমান

এ যুগের মুসলমান

মো: হাজ্জাজ মিন সাগর

পৃথিবীতে একমাত্র শান্তির ধর্ম ইসলাম। ইসলামকে যারা বুকে লালন করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সৌভাগ্য অর্জন করে তাদের বলা হয় মুসলমান। যারা প্রকৃত মুসলমান তারা আল্লার ভয়ে পরকালে নাজাতের আশায় আল্লাহ তাআলার বিধিনিষেধ মেনে চলে। বর্তমান সময়ে এই পৃথিবীতে ইসলাম আছে, মুসলমানও আছে কিন্তু মুসলমানের মুসলমানিত্ব নাই। মুসলমানিত্ব বলতে আল্লাহর বিধিনিষেধ মেনে চলার দিকটিকে বোঝানো হয়েছে। মিথ্যা কথা, সুদ, ঘুস, অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নেশা, জুয়া, ধর্ষণ ইত্যাদিতে ভরে আছে পৃথিবী। আজ-কাল খবরের পাতা খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণের খবর। ধর্ষনের দাবানল থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্ট শিশু এমনকি প্রতিবন্ধী। বর্তমান সময়ে সারা দিনে একটিও মিথ্যা কথা বলেনি এমন মানুষ আলয়ের মাঝে খুঁজে পাওয়া দায়। আমাদের রাসূল (সাঃ) তাঁর দুনিয়ার জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেননি। আর তার উম্মতেরা সারা দিন অনর্গল মিথ্যাকথা বলে। কারণ হলো এই অন্যায়ের যুগে মিথ্যা বলা সহজ। মিথ্যে বলেই অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। আর যারা সত্যকে আঁকড়ে ধরে জীবন অতিবাহিত করছে তাদের অবস্থা অত্যান্ত করুণ। আমার মনে হয় যদি কোন দৈব শক্তি পৃথিবীতে বিরাজমান থাকতো যে একজন মিথ্যা বলার সাথে সাথে সেই দৈব শক্তি ঠাস করে চড় মেরে গালের দুটা দাঁত নাড়িয়ে দিতো তাহলে বেশ ভালো হতো। সুদ, ঘুস ছাড়া তো বাড়ি থেকে এক পা এগানো যায়না। সমাজের বড় বড় মানুষেরা সুদের বিস্তারে নিজের মাথা উঁচু করছে আর ওরাই এই সমাজের লালনকর্তা। সমাজের কোন মানুষ যদি ঘুষের সাগরে না নামতে চায় তবে তাকে সেথায় হাবুডুবু খাওয়ানো হয়। কালের ধারাবাহিকতায় পৃথিবীটা সেই ‘জাহেলিয়াত’ এর যুগের মত হয়ে যাচ্ছে। মুসলমান সমাজে বিরাজমান এ ধরনের অন্যায় কাজকর্ম।

মুসলিম জাতি হলো বীরের জাতি। অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে মুসলমানকে পৃথিবীর বুকে, তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মুসলিমদের নিয়ে এসব যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন। তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ সমূহ হলো: বদর যুদ্ধ (৬২৪ খ্রি.), উহুদ যুদ্ধ (৬২৫ খ্রি.), খন্দক যুদ্ধ (৬২৭ খ্রি.), মক্কা বিজয় (৬৩০ খ্রি.), হুনায়ুনের যুদ্ধ (৬৩০ খ্রি.), তাবুক যুদ্ধ (৬৩০ খ্রি.)। তাবুক যুদ্ধ ছিল মহানবী (সাঃ)-এর শেষ যুদ্ধযাত্রা। প্রত্যেক যুদ্ধ ক্ষেত্রেই মুসলমানদের বীরত্বে ভয়ে থরথর করে কেঁপেছিল ইহুদী সৈন্যরা। মুসলমানদের ইতিহাস খুঁজলে পাওয়া যায় মুসলমানদের বীরত্বের কথা, অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা, অজস্র নির্জাতনের পরও জয়ের কথা। কিন্তু আজ মুসলমান ভীত। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ কাশ্মিরে মুসলমানদের হত্যা করছে ভারত সেনারা কিন্তু মুসলমানেরা চুপচাপ দেখে ও সয়ে যাচ্ছে। যদি সারাবিশ্বের মুসলমান একসাথে হুংকার দিয়ে ভারত সেনাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করতো তাহলে ভারত সেনারা পালাবার যায়গা খুঁজে পেতনা। আজ ইহুদিদের দেখে মুসলমান ভয় পায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী এই পৃথিবীতে মুসলমানদের বিজয় অনিবার্য। নিজের জীবন রক্ষার্থে অাজকের মুসলমান হাত গুটিয়ে বসে আছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মুসলমানদের অপারগতা প্রকাশ পাচ্ছে। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ডুবে আছে মুসলমান। এভাবে চলতে থাকলে এককালে মুসলমানদের অস্তিত্ব বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত সঠিক পন্থা অবলম্বন করা। আল্লাহ পৃথিবীর সকল মুসলমানদের দ্বীনি বুঝ দান করুক। আমিন।

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme