লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
নবীজীর রত্নতুল্য শিক্ষা

নবীজীর রত্নতুল্য শিক্ষা

কাজী তানভীর

তখন ছিল দিনের অন্তবেলা ছুঁইছুঁই। অগ্নীঝরা রোদেলা দুপুর। নবীজী সাহাবাদের নিয়ে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করলেন কোন এক যুদ্ধসমাপ্তির পর। দুপুরের আগুনঝরা রোদে কাফেলার পথ চলা অসম্ভব! তাই নবীজী (স.) কাফেলা থামালেন বিশ্রাম করার জন্য। সাহাবারা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিশ্রাম করতে লাগল। নবীজী কিছুদূর পথ হেঁটে নির্জনস্থানে বাবলা গাছের ছাঁয়াতলে চলে গেলেন। তলোয়ারটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখলেন। অতপর ঘুমিয়ে পড়লেন।

কাফির সরদার নবীজীকে এমন অবস্থায় দেখে ছুটে গেল নবীজীর কাছে। লোকারণ্যহীন, কোলাহল মুক্ত, নির্জনস্থানে নবীজীকে দেখে ঘুরে দাঁড়াল, সাহাবীরাও বিশ্রাম নিচ্ছে অদূরে। কখন আবার টের পায়! সবার জীর্ণ, শীর্ণ, ক্লান্ত, শরীর। সবেমাত্র যুদ্ধের পরিসমাপ্তি করে এল। মোহাম্মদকে হত্যা করার এমন সুযোগ মিলবে না আর হয়তো! তাই আর দেরি কেন!

সুযোগের সমুচিত জবাবের দায়ে গাছের ডালে ঝুলানো নবীজীর তলোয়ার হাতে হত্যার হস্ত-রঙিন করল কাফির সরদার। এবং হুংকারে বলল! হে মোহাম্মদ এখন আমার এই রঙিন হাতকে দমাবে কে? আমার হাত থেকে তোমাকে বাঁচাবে কে? ভেঙে গেল নবীজীর ঘুম। একটুও চিন্তিত নন নবীজী। বুকে-মুখে সাহসীকতার ছাপ! নবীজী প্রশান্তচিত্তে উত্তর দিলেন। আল্লাহই আমাকে বাঁচাবেন।

শত্রুর তলোয়ারের নিচে বসে এমন দৃঢ়-বিশ্বাস কল্পনাও করা মুশকিল। ঠিক এমন সময় আমাদের উপস্থিত হলে, আমার “জান বাঁচানো ফরজ” উক্তিটা বেচে নিয়ে জড়িয়ে যেতাম রবের হরেক নাফরমানিতে! কিন্তু নবীজী আমাদের শিখিয়ে গেলেন রত্নতুল্য শিক্ষা। বুঝিয়ে দিলেন অনেক কিছু। শত্রুর রক্তচক্ষু অপেক্ষা করে সত্যের উপর অবিচল থাকতে, এবং মহান আল্লাহর দৃঢ়-বিশ্বাস চিত্তে লালন-ধারণ করতে শেখালেন আমাদের।

নবীজীর সাহসী উত্তরে ভড়কে গেল কাফির সরদার! থরথর করে কাঁপতে লাগল ভয়ে। হাতথেকে পড়ে গেল তলোয়ার মাটিতে! চোখের পলক নাড়াতেই মহাকৌশলী নবীজী তলোয়ার তুলে নিলেন নিজের হাতে। মুচকি হেসে নবীজী বললেন। এবার আমার হাত থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে? উপায়হারা কাফির সরদার অনুনয়-অনুতাপের সুর জড়ালো মুখে। বললো, হে মোহাম্মদ! আমাকে মাফ করুন! আমাকে বাঁচানোর মালিক একমাত্র আপনিই! নবীজী বললেন, না। একমাত্র সর্বস্রষ্টা মৃত্যুদাতা আল্লাহই তোমাকে রক্ষা করতে পারবে। যিনি আমাকে রক্ষা করেছেন। যাও তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।

দয়াল নবী, ময়ার রবি, মানবতার ছবি, মহাসত্যের বিপ্লবী কবি, কাফের সর্দার দুসূরকে সমুচিত জবাব না দিয়ে ক্ষমা করে ছেড়ে দিলো। নবীজীর মমতাভরা আচরণে স্নিগ্ধতা-মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল দুসূরের অন্তরে। বিগলিত হলো তার হিংস্র চিত্ত! সুবাসিত হল গন্ধে বিমোহিত পাষাণ অন্তর।

দুসূর তার কাওমের লোকদের ডেকে বললো হে কাওমের লোকসকল! তোমরা কি জানো এখন আমি কার কাছ থেকে ফিরে এসেছি? প্রতিউত্তরে লোকগন বলল, না জনাব! আমরা জানি না। আমি একজন শ্রেষ্ঠ মানুষের কাছ থেকে ফিরে এসেছি। অতপর দুসূর সুনিপুণভাবে ঘটেযাওয়া গঠনাগুলোর বর্ণনা দিল তার কাওমের লোকদের কাছে। অবশেষে সত্যের বেলা-প্রাতে উদিত হল দ্বীনের রবি। দুঠোটের মধ্য হতে বেরিয়ে আসলো কালিমার সুরভিত সুর। কলুষিত দিলগুলো রূপান্তরিত হলো মাটিমনে। আলহামদুলিল্লাহ, দুসূর ও তার কাওম সবাই মুসলমান হয়ে গেল!

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme