লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
বাবুইপাখির সংসার

বাবুইপাখির সংসার

কবির কাঞ্চন

হিজলতলী গ্রামের দক্ষিণের বনে হাজারো স্মৃতির স্বাক্ষী হয়ে আছে একটি তালগাছ। এই তালগাছেই বছরের পর বছর সুখে-দুঃখে কাটিয়েছে বাবুইপাখি দম্পতি। তাদের দু’জনের শৈশবের মধুর সময়ও এই তালগাছটিকে ঘিরেই কেটেছে। জন্মের পর থেকে তারা পাশাপাশি বাসায় থেকে বড় হয়েছে। বাবুইপাখি দম্পতি পরষ্পর পরষ্পরকে ভালোবেসেই ঘর বেঁধেছে। তাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে ইতোমধ্যে তাদের ঘর আলো করে তিনটি ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম হয়েছে। একটি বাচ্চা দেখতে ঠিক তার বাবার মতো। অপর দুটি বাচ্চা তার মায়ের মতোই হয়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে বেশ সুখে-শান্তিতেই দিন যাচ্ছিল তাদের। কিন্তু কিছুদিন আগে বাবুই দম্পতি খাবারের সন্ধানে একসাথে বের হয়েছিল। তখনই ঘটল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দু’জনে যখন মাঠের খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত এমন সময় কিছু দুষ্ট ছেলের দল তাদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে। এর একটি ঢিল এসে পড়ে পুরুষ বাবুইপাখিটির গায়ে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। স্ত্রী বাবুইপাখিটি স্বামীকে হারিয়ে একাকী বাসায় ফিরে আসে। স্বামীকে হারিয়ে বাবুইপাখিটি চরম অসহায় হয়ে পড়ে। তবু তাকে জীবন সংগ্রামে নামতে হয়। সেই থেকে বাচ্চাদের মায়ের পাশাপাশি বাবার দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছে সে।

একদিন বাবুইপাখিটি তার বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় আনন্দ করে সময় কাটাচ্ছিল। এমন সময় তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু চড়ুই এসে বাইরে থেকে ডাক দিল,
-বাবুই, ও বাবুই।
বাবুই বাসা থেকে আলতোভাবে মাথাটা বাইরে বের করে বলল,
-ওহ্! চড়ুই, তুমি! কখন এলে?
-এইতো, কিছুক্ষণ হলো। আজতো অনেকবেলা হয়ে গেলো, খাবারের খোঁজে যাবে না?
-সই, একটু দাঁড়াও। আমার বাচ্চাদের আরেকটু ঘুম পাড়িয়ে দিই। ওদের চোখে ঘুম।
-তুমি একা একা ওদের জন্য আর কত করবে! আমি বলি কি, ওরা একটু একটু উড়তে শিখছে। এবার ওদের খাবার নিজেদের জোগাড় করতে পাঠাওনা।
-না, সই। ওরা এখনও শক্ত হয়নি। বাইরে বেরুলে যেকোনো বিপদ হয়ে যেতে পারে। এমনিতেই সারাক্ষণ ভয়ের মধ্যে থাকি। যে যুগ পড়েছে। কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। মানুষ আগে তো আমাদেরকেই মারতো। এখন নিজেরাই নিজেদের মারতে দ্বিধা করে না। তাছাড়া আমার বাচ্চাগুলো একটু অন্যরকম। মা হিসেবে ওদের আমি অনেক বুঝিয়েছি। আত্মরক্ষার জন্য হলেও উড়তে শেখা প্রয়োজন। কিন্তু ওরা খুব অলস প্রকৃতির। আমি আছি বলে ওদের আর কোন চিন্তা নেই।
-হ্যাঁ, তুমি একদম ঠিক কথাই বলেছো। তবু জীবনের গতিপথ ধরে রেখে এগুতে হবে। ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে কী হবে? আর তুমি না থাকলে ওদের কী হতে পারে তা কী ভেবে দেখেছো?
-ওদের নিয়েইতো আমার যতো টেনশন।
-আর টেনশন না করে ওদের একটু চাপ দাও। ওরা স্বনির্ভর হোক। এবার চলোতো। অনেক দেরি হয়ে গেছে।
-আচ্ছা চলো। আমার বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে।

বাবুই আর চড়ুই খাবারের খোঁজে জঙ্গলের অনেক ভেতর চলে গেলো। আজ এখনো কোনো খাবার পেলো না। অন্যদিন অনেক আগেই খাবার পেয়ে যায়। কিন্তু আজ তার নামগন্ধ নেই।

বহুদূরের পথ উড়ে আসার কারণে দু’জনেই খুব ক্লান্ত হয়ে গেলো। তাই নিচে কোনো একটি গাছের ডালে নেমে দুজনেই বিশ্রাম করার প্রস্তুতি নিলো। অতঃপর নিচে নেমে পড়লো। একটু দূরেই খাবার পেয়ে গেল। তাই দু’জনে মুখভর্তি খাবার নিয়ে খুশিমনে তাদের বাসার দিকে রওনা দিলো।

বাবুইপাখির বাচ্চাগুলোর উড়ার মতো বয়স হয়েছে। কিন্তু এখনও ওরা ভালোভাবে উড়তে শিখেনি। মায়ের উড়াউড়ি দেখেও উড়তে চায় না। ওদের মা সারাদিন খাটনি করে খাবার জোগাড় করে আনে। ওদের মধ্যে বড়বাচ্চাটি ছাড়া কেউই মায়ের কষ্টকে বুঝে না। ওদের মা সারাদিন খাটুনি করে ওদের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। নিজের মুখের খাবার ওদের ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে খাইয়ে দেন। সবাই আনন্দের সাথে মায়ের মুখের খাবার গিলে নেয়। বড়বাচ্চাটি মায়ের মুখের খাবার একবার নেয় তো কিছুসময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে মনে মনে ভাবে- মা নিজে খেয়েছে তো! নাকি সব আমাদের খাইয়ে দিয়ে নিজে উপবাস রয়েছেন। একসময় মায়ের চোখে চোখ পড়তেই মা তাকে জিজ্ঞেস করেন,
-কিরে তুই খাচ্ছিস না যে? আর মনে মনে কী ভাবছিস?
বড়বাচ্চাটি মায়ের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে।
মা পাখিটি আবার বলল,
-কোন কথা বলছিস না কেন?
-না, মা, তোমার কথাই ভাবছি।
-আমার আবার কী হলো?
-তুমি নিজের মুখের খাবার আমাদের মুখে তুলে দিচ্ছো। আর আমরা তোমার কথা চিন্তা না করে নিজেরাই খেয়ে নিচ্ছি। মা পাখি খুশি হয়ে বলল,
-এই কথা! আগে তোমরা খেয়ে নাও। তারপর আমি খেয়ে নেবো।
-আমরা খেয়ে নিলেতো সব খাবার শেষ হয়ে যাবে। তুমি কী খাবে?
-আমার জন্য তোমাদের চিন্তা করতে হবে না। আমি উড়ে গিয়ে আবার খাবার সংগ্রহ করবো।
মায়ের এই কথার পর সবাই আবার খেলাধুলায় ব্যস্ত হয়ে গেলো।

চড়ুইপাখির বাচ্চারা খুব কর্মঠ ও হিসেবি। একটু সুযোগ পেলেই তারা খাবারের সন্ধানে বের হয়। একটু একটু করে খাবার সংগ্রহ করে আনে। তারপর মায়ের খাবার যোগ হলে তাদের ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য মজুদ থাকে। দিনেদিনে তারা বিপদের হাত থেকে বাঁচার কৌশলও শিখতে শুরু করেছে। অন্যদিকে সমবয়সী হলেও বাবুইপাখির বাচ্চাগুলো কর্মবিমুখ স্বভাবের। তারা নিজেরা কখনও বাসার বাইরে বেরোয় না। উড়তেও চায় না। তারা খাবারের জন্য মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। বড়বাচ্চাটি কিছুটা মায়ের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু সেও ঘর থেকে বেরোয় না।

পরদিন আবার চড়ুইপাখিটি এসে বাবুইকে ডাক দিলো। বাবুইপাখি চড়ুইকে দেখে হাসতে হাসতে বাসা থেকে বের হলো। দু’জনে উড়তে উড়তে একটি শস্যক্ষেতে এসে নামলো। খাবার সংগ্রহের এক ফাঁকে চড়ুই বাবুইপাখিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-জানো সই, আমার বাসায় অন্তত একমাসের খাবার মজুদ আছে। বাবুই বিস্মিত হয়ে বলল,
-তা কী করে সম্ভব! আমার বাসায় তো আগামীকালের খাবারও নেই।
-থাকবে কি করে? তুমিতো তোমার বাচ্চাদের লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছো। এতো বয়স হয়েছে। তবু ওরা উড়তে শেখেনি। একটু-আধটু করে খাবারের খোঁজে বের হয় না। আমি বলি কি- এবার একটু কৌশলী হও। ওদের স্বাবলম্বী হতে দেখলে মরেও শান্তি পাবে।
বাবুইপাখি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
-আমিতো তা-ই চাই। কিন্তু কোন উপায় তো দেখছি না।
-আমার একটা কথা শুনবে?
-কি কথা? বলো না।
-তুমি আমার সাথে কিছুদিন আমার বাসায় থেকে যাও। তোমার বাচ্চারা তোমার অপেক্ষায় থাকবে। পেটের ক্ষিধে সহ্য করতে না পারলে একসময় নিজেরাই খাবারের জন্য বের হতে বাধ্য হবে। সেইসাথে কৌশলীও হবে।
-ওরা কি তা পারবে?
-নিশ্চয়ই পারবে। তুমি আমার কথায় রাজি হয়ে যাও। দেখবে ওরা ঠিক তোমার মতো হয়ে গেছে। তাছাড়া তোমার অনুপস্থিতিতে ওদের আমি দূর থেকে লক্ষ্য করবো। বেশি সমস্যা দেখা দিলে আমি নিজে গিয়ে তাদের সাহায্য করবো। তুমি কোন চিন্তা করো না।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-তাহলে এখন আমার বাসার দিকে চলো।
-হ্যাঁ, চলো।

বাবুই যখন চড়ুইপাখির বাসায় আসে তখন চড়ুইপাখির বাচ্চাদের কর্মকান্ড দেখে বাবুইপাখির দু’চোখের জল গড়িয়ে পড়ে। কারণ তার বাচ্চাগুলো এতো বড় হয়েছে তবু তাকে একটুও সাহায্য করে না। এ বয়সে আজও তাকে ওদের জন্য খাবার খোঁজতে যেতে হয়। অথচ চড়ুইপাখির বাচ্চাগুলো ওদের সমবয়সী। ওরা মায়ের সাথে খাবার আনতে যায়। বাসা বুননে মাকে সাহায্য করে। বাবুইপাখিটি মনে মনে জিদ করে মিনমিনে বলে,
-ওদের জন্য আমি আর কতোদিন করবো! যেদিন আমি থাকবো না সেদিন ওরা কী করবে? এভাবে বসে থাকলে কি অন্য কেউ এসে এমনি এমনি ওদের খাবার দিয়ে যাবে? আমি যখন মরে যাবো তখন ওরা বুঝবে মায়ের কাজে সাহায্য না করার ফল।

এই কথা বলে বাবুইপাখি দু’চোখের জল ছেড়ে কেঁদে ওঠে। চড়ুইপাখি পাশে বসে তাকে সান্ত¡না দেয়। আর চড়ুইপাখির বাচ্চারা হা করে বাবুইপাখির দিকে তাকিয়ে থাকে।

ওদিকে বাবুইপাখির বাচ্চাগুলো অধীর অপেক্ষায় মায়ের পথের দিকে চেয়ে আছে। তাদের মা খাবার নিয়ে আসবে আর তারা তা মজা করে খাবে। কিন্তু তাদের আজকের এই অপেক্ষার ক্ষণ শেষ হয়না। বেলা শেষে সন্ধ্যার আঁধার নামলেও তাদের মায়ের আসার কোন লক্ষণ নেই। পেটের ক্ষুধায় সবাই ছটফট করতে থাকে। বড়বাচ্চাটি ছোটদের অভিভাবকের মতো করে বোঝাতে থাকে। মিথ্যে সান্ত¡না দেয়। সেই সান্ত¡নায় সবাই অভুক্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন ভোরেই চড়ুইপাখিটি উড়তে উড়তে বাবুইপাখির বাসার অদূরে একটি গাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থেকে বাবুইপাখির বাচ্চাদের লক্ষ করতে লাগলো। বড়বাচ্চাটি বাসা থেকে মাথাটা বের করে উড়বার জন্য বারবার ডানাজোড়া জাপটাচ্ছে। হঠাৎ উড়ে পাশের গাছে গিয়ে বসলো। চড়ুইপাখি একটু নড়েচড়ে বসলো। বাবুইপাখির বড়বাচ্চাটি গাছের ডালে বসে কী যেন খাচ্ছে। চড়ুইপাখিটি অন্য ডালে গিয়ে আবার লক্ষ করলো। কিন্তু কোথায়? বাবুইপাখির বড়বাচ্চাটি আর সেখানে নেই। এদিকওদিকে তাকিয়ে যখন কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না তখন আবার বাবুইপাখির বাসার দিকে তাকিয়ে চড়ুই তো অবাক। সে একি দেখছে! বড়বাচ্চাটি বাবুইপাখির মতো করে ওদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। ওরাও তা মজা করে খাচ্ছে। এসব দেখে খুশিমনে নিজের বাসার দিকে ফিরে আসে চড়ুইপাখি। চড়ুইকে হাস্যোজ্জল দেখে বাবুইপাখি বলল,
-কি ব্যাপার? তোমাকে আজ খুব খুশি খুশি লাগছে।
-আজ ভোরে তোমার বাচ্চাদের দেখতে গিয়েছিলাম।
চড়ুইয়ের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বাবুইপাখি বলল,
-তো সই, আমার বাচ্চারা কেমন আছে? এতক্ষণে নিশ্চয় খাবারের অভাবে ওরা মুমূর্ষু হয়ে গেছে।

এই কথা বাবুইপাখি বিলাপ করে কাঁদতে লাগলো। চড়ুইপাখি তার কান্না থামিয়ে বলল,
-আরে! তুমি আবার কাঁদছো কেন? তোমাকে না সেদিন বলেছিলাম, তোমার অনুপস্থিতিতে ওদের পরিবর্তন আসবে। ঠেকায় পড়ে ওরা সব শিখবে। তাই হয়েছে। সেকারণে আমি আজ খুশি। বাবুইপাখি আনন্দিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-আমি তোমার কথার মানে ঠিক বুঝিনি। দয়া করে খুলে বলো।
-তোমার বড়বাচ্চা খাবার সংগ্রহ করে ওদের খাওয়াচ্ছিল। ওরাও তা মজা করে খাচ্ছিলো। আর ওদের দেখে আমার মনে হয়েছে কয়েকদিনের মধ্যে ওরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
-তাই যেনো হয়, সই।
এই কথা বলে বাবুইপাখি চড়ুইয়ের ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে আদর করে।

এরপর আরও তিনদিন কেটে গেলো। বাচ্চাদের একা রেখে এসে বাবুইপাখির এক একটা দিন যেন এক বছরের মতো কাটছে। তার আর তর সইছে না। সে মনে মনে স্থির করে আজ যেভাবেই হোক চড়ুইকে রাজি করিয়ে বাচ্চাদের কাছে ফিরে যাবে।

মধ্যদুপুর বাইরে সূর্য তার উত্তাপ ছড়াচ্ছে। প্রচন্ড গরমের মধ্যে চড়ুইপাখি ঠোঁটে করে খাবার নিয়ে বাসায় ফিরে আসে। বাবুইকে বাসার এককোণে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে চড়ুই তার কাছে এসে বলল,
-তোমার আবার কি হলো? এভাবে মন খারাপ করে বসে আছো কেন?
-না গো সই, আমার বাচ্চাদের কথা খুব মনে পড়ছে। আমি ওদের কাছে ফিরে যাবো।
-ফিরে তো যাবেই। আরো দুই/চারদিন বেড়িয়ে যাও।
-না, সই। আমি আজই চলে যাবো। ওদের ছাড়া আমি আর একমুহূর্ত থাকতে পারবো না।
এই কথা বলে বাবুইপাখি দু’চোখের জল ছেড়ে কেঁদে ওঠে। চড়ুই বাবুইপাখির আরো কাছাকাছি বসে কোমল গলায় বলল,
-ঠিক আছে। আর কোন চিন্তা করতে হবে না। এখন খেয়ে নাও। আজ বিকালেই আমরা ওদের কাছে ফিরে যাবো।

বাবুইপাখি আনন্দে ডানা ঝাপটিয়ে চড়ুইপাখির সাথে আলিঙ্গন করে। চড়ুই মনে মনে বিড়বিড় করে বলে, এরই নাম মা-বাবা। সন্তানকে একটু না দেখে থাকতে পারে না। নিজের মুখের খাবার সন্তানের মুখে তুলে দিয়ে সুখ খোঁজার মতো এ জগতে আর কে আছে? অথচ মানুষের খোলসে কিছু অমানুষ তা বুঝতে চায় না। যে বাবা-মা তাদের হাত ধরে ধরে ছোট থেকে বড় করেছেন। চলার পথের কণ্টকাকীর্ণ পথে নিজেরা থেকে তাদের পথকে মসৃণ করেছেন। ওরা কেমন করে পারে সেই বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসতে!

চড়ুইকে আনমনে হয়ে থাকতে দেখে বাবুই জিজ্ঞেস করলো,
-আবার কি নিয়ে চিন্তা করছো, সই?
-আমি মানুষের ব্যবহার নিয়ে ভাবছি। দেখো না, দিনেদুপুরে একজন মানুষ আরেকজনকে কী নৃশংসভাবে হত্যা করছে! ওরাই আবার প্রিয় বাবামাকে শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসছে! ওরা কি একবারও ভাবে না? একসময় তারাওতো বুড়ো-বুড়ী হবে। তখন তাদের সন্তানরা তাদের সাথে কি আচরণ করতে পারে?
-যে যেমন কর্ম করবে সে তেমন ফল ভোগ করবে। নিয়তির নির্মম বাস্তবতায় তাদেরও শেষ
বয়সের ঠিকানা হতে পারে বৃদ্ধাশ্রম।

চড়ুই বাবুইপাখির কথায় সায় দিয়ে বলল,
-তুমি একদম ঠিক বলেছো। যাই হোক এখন চলো আমরা খেয়ে নিই।
-আচ্ছা।

বিকালবেলা। সূর্যটা আস্তে আস্তে পশ্চিমাকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। চড়ুই আর বাবুই বাসা থেকে বের হয়ে বাবুইপাখির বাসায় চলে আসে। বাসায় কেউ নেই। বাসার এককোণে বেশ খাবার পড়ে আছে। বাচ্চাদের বাসায় না দেখে বাবুইপাখি খুব ভয় পেয়ে যায়। না জানি ওদের কোন বিপদ হয়েছে। হঠাৎ দূর থেকে চিরপরিচিত সুর কানে বাজতেই বাইরে ঠোঁট উঁচিয়ে দেখলো। তার আদরের সন্তানেরা অক্ষত অবস্থায় ঠোঁটে করে আহার নিয়ে বাসায় ফিরছে। সন্তানদের এমন স্বনির্ভর হতে দেখে মায়ের মন ভরে যায়। মা পাখিটি পরম কৃতজ্ঞতায় বারবার স্রষ্টাকে স্মরণ করে।

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme