লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com

বাক-বাকুম

দিপংকর দাশ

খাঁচাতে একঝাঁক কবুতর পোষে দিগন্ত। কবুতর পালনে তার দারুণ আগ্রহ। ছোটবেলায় যখন মা তাকে জানালার পাশে দোলনায় ঝুলিয়ে রাখতো তখন থেকেই পাশের বাসার ছাদে বাক-বাকুম বাক-বাকুম শব্দে হেঁটে চলা কবুতরের দিকে তাকিয়ে থাকতো দিগন্ত। যখন খুব কান্না করতো, মা কোনোভাবেই শান্ত করতে পারতো না, তখন মা কবুতরের মতো বাক-বাকুম করে ডাকতো। আশ্চর্যের কথা হলো দিগন্তের কান্না তখন বন্ধ হয়ে যেতো। সে হি হি হি করে হেসে উঠতো। সেই থেকেই তার কান্না থামানোর প্রধান ঔষধ ছিলো বাক-বাকুম।

তৃতীয় শ্রেণীতে উঠার পর দিগন্ত গ্রীষ্মের ছুটিতে মামার বাড়ি গিয়েছিলো। সেখানে তার এক কাজিনের কাছে দুইটি কবুতর দেখতে পেলো। সে কবুতর আনার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু তার কাজিনও ছিলো একরোখা। দেয়নি ঐ কবুতরগুলো। খুব কেঁদেছিল সেদিন দিগন্ত। পরে মা তাকে বাজার থেকে তিনটি কবুতর কিনে দিয়েছিলো। সেই কারণে কখনো আর মামার বাড়ি যায় নি সে।

দিগন্ত আজ অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মেধাবী ছাত্র। ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকে সে এবং নিয়মিত স্যারের পড়াও শিখে। বন্ধুদের সাথেও খুব জমে উঠে তার। কিন্তু কখনো বন্ধুদের তার কবুতরের কথা বলে না। তারও এক গল্প আছে।

ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় দিগন্ত তার এক বন্ধুকে বাড়ি নিয়ে আসে। সেই বন্ধুকে তার কবুতরগুলো দেখায়। কিন্তু যাবার সময় ঐ বন্ধুটি একটি কবুতর চুরি করে তার স্কুল ব্যাগে করে নিয়ে গেছিলো৷ প্রথমে দিগন্ত তা জানেনি। সন্ধ্যায় যখন খাবার দিতে যায় তখন দেখে একটি কবুতর কম। সে দৌড়ে পাশেই তার সেই বন্ধুর বাড়িতে যায়। গিয়ে দেখে ঐ পাষ- বন্ধু তার কবুতরটিকে পায়ে দড়ি বেঁধে ছাদে আটকে রেখেছে। খুব ঝগড়া করে সেদিন সে তার কবুতরকে উদ্ধার করে। সেই থেকে কোনো বন্ধুকে আর বাড়ি এনে কবুতর দেখায় না দিগন্ত।

দিগন্তের ঘুম ভাঙে কবুতরের বাক-বাকুম শুনে। ঘুম থেকে উঠেই সে প্রথমে তাদের খেতে দেয়, পানি দেয় এবং খাঁচা থেকে মুক্ত করে দেয়। বিকালে স্কুল থেকে ফিরে দেখে কবুতরগুলো ছাদে খেলছে। তারপর সেগুলোকে আবার খাবার ও পানি দেয়। কোনো কবুতর আহত হলে তার চিকিৎসা করে। এভাবেই কেটে যায় তার দিন।

একদিন একটি কবুতরের গায়ে কে যেন তীর ছুঁড়ে মেরেছে। কবুতরটি আহত হয়েও উড়ে আসে দিগন্তদের বাড়ির ছাদে। ব্যথায় ছটফট করতে থাকে। রক্ত গড়িয়ে পড়ে নিচে। দিগন্ত ছাদে এসে দেখে তার কবুতর মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। সে পাগল হয়ে যায়। প্রথমে তীরটাকে টেনে বের করে। সে বুঝতে পারছে তার কবুতরের খুব কষ্ট হচ্ছে। হয়তো মুখ ফুটে কিছু বলতে চাইছে। পরে কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয় সারা শরীর। কিন্তু রক্ত পড়া বন্ধ হয়নি। কবুতরের চোখটা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। হয়তো সে ঝাপসা দেখছে। ধীরে ধীরে চোখ বুজে নেয় সে। দিগন্ত চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। খুব কষ্ট পায় সে। তার মা এসে তাকে শান্তনা দেয়। মরার আগেও কবুতরটি বাক-বাকুম বাক-বাকুম ডেকে দিগন্তের কাছ থেকে বিদায় নেয়। এখনো তার কানে ভাসে সেই মিষ্টি মধুর বাক-বাকুম বাক-বাকুম ডাকটি।

(জলসুখা, আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ)

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme