লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
কাশের দেশে প্রকৃতির হাসি

কাশের দেশে প্রকৃতির হাসি

কাঞ্চন দাশ 

নীলাকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা..! হ্যাঁ‚ নীলাকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে এসেছে শরৎ। রৌদ্র-মেঘের ছায়ার খেলা‚ ছড়িয়ে পড়া শিউলি ফুল‚ দুলতে থাকা কাশবন‚ নবান্নের উৎসব আয়োজনের হাঁকডাক জানিয়ে দেয় শরৎ এসেছে। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে শরৎআবহ।

বর্ষার বিদায়ের ঘন্টা ঘনিয়ে আসতে না আসতেই যেন নতুন এক প্রকৃতির আহবান। বর্ষার আবরণের মধ্যে এলো শরৎ। বর্ষার বিষন্নতা পরিহার করে শরৎ এসেছে শান্ত স্নিগ্ধ কোমল রূপ নিয়ে। যেখানে নেই কোনো মলিনতা‚ আছে কেবল নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছ্বাস। কি অপূর্ব রঙের খেলা‚ কি অপূর্ব মায়াবী রঙিন ভুবন সাজায় প্রকৃতি শরৎ এর বুকে তা মনোদৃষ্টি না দিয়ে দেখলে বোঝা যায়না। শরতে প্রাণবন্ত রূপ নিয়ে হেসে ওঠে গ্রামবাংলার বিস্তৃত দিগন্ত।শরতের এই শুভ্র রূপ পবিত্রতার প্রতীক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ প্রিয় শরৎকে স্বাগত জানিয়ে  লিখেছিলেন‚ ‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ‚ আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা/নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে‚ সাজিয়ে এনেছি ডালা/এসো গো শারদলক্ষ্মী‚ তোমার শুভ্র মেঘের রথে,/এসো নির্মল নীলপথে…’। শরতের নিজস্ব রূপবিন্যাসে আকাশ-মাটি, বন-বৃক্ষ নদীতরঙ্গ সবই যেন হয়ে ওঠে স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত। সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে‚ শুভ্র কাশের আঁচল উড়িয়ে‚ কণ্ঠে শেফালি ফুলের মালা দুলিয়ে শরৎ আসে প্রকৃতিজুড়ে। মাঠে মাঠে চিরসবুজ ধানক্ষেতের নয়নাভিরাম দৃশ্য‚ ধানের শীষে আগামী দিনের ফসলের মুকুল।শরতের স্তব্ধতা দূর গ্রামের দিগন্তরেখার নিচে ঘনায়মান সন্ধ্যার মতোই শান্ত ও মধুর।

শরতের আগমন যেন জানান দেয় সবকিছুতেই।শরৎ মানেই শিউলির মধুগন্ধ ভেসে বেড়ানোর দিন। শিউলি ফুলের গন্ধে অঙ্গে এক প্রশান্তি অনুভূত হয়। শরতের শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ মনে এক প্রশান্তি এনে দেয়। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ এ ঋতুর চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রিয়তমাকে। তিনি তার ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতায় লিখেছেন- ‘এখানে আকাশ নীল/নীলাভ আকাশজুড়ে সজিনার ফুল/ফুটে থাকে হিম শাদা/ রং তার আশ্বিনের আলোর মতন’….। অনেকের মতে‚ শরৎকালে মনটা নেচে ওঠে ছুটির নেশায়‚ উৎসবের নেশায়!

আর শরতের পূর্ণিমা রাত মানেই হচ্ছে—

চাঁদের মিষ্টি আলোর সাথে মাঝে মাঝে সেই সাদা মেঘেদের আবারো ঝগড়া। তখন চাঁদ কিছুটা মন খারাপ করে বসে থাকে। আবার তখন দক্ষিণা বাতাসের ঢেউয়ে কিন্তু ফসলের মাঠের সেই অপরুপ দৃশ্য জানি বার বার এই বাঙ্গালিদের ভালোবাসতে শেখায়। দিনের সোনালী রোদ্দুরের ঝিলমিলি আর রাতের ধবধবে জ্যোৎস্নার টানে মন হয়ে উঠে মাতোয়ারা। চাঁদ তার নিজস্ব আলো ছড়িয়ে দেয় সবখানে। সন্ধ্যার আকাশে তারাগুলো সব গুটিগুটি হাসে। শরতের মন ভোলানো প্রকৃতিতে মন যে কি চায় তা বুঝে ওঠাই মুশকিল! সকল জরাজীর্ণতা ভুলে গিয়ে নিজেকে রাঙাতে শরৎ ধরা দেয় আমাদের হাতে।

বর্ষার বিদায় বেলায় শরতের আগমনে শারদীয় মেঘমেলা। এবার শরতের শুরুর দিনটিতে রোদ ঢেকেছিলো মেঘের পরতে।

সুন্দর পাড়া বন্দর‚ চট্টগ্রাম।

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme