লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com

ছড়াস্লিপ- ৩

ছন্দ চিনি মাত্রা মতো

স্লিপে ছন্দ নিয়া আলাপ করুম বলছিলাম। কিন্তু ছন্দ নিয়া কথা বলার আগে মাত্রা নিয়া আলাপটাও জুরুরি। নাইলে ছন্দালাপে মাত্রাজ্ঞান ঠিক না থাকার ঝুঁকি কিন্তু থাকেই। এখন প্রশ্ন হইল মাত্রা কি? কিতাবি ভাষায় বলতে গেলে- মাত্র হইল শব্দের ক্ষুদ্রতম একক। বুঝা যাইতেছে, তয় ‘একক’ কথাটা টেকনিক্যাল। একটু ভাইঙ্গা বলি। দুনিয়ায় সব মেজার বা মাপের একক বা ইউনিট থাকে। এইটাকে ইউনিট মেজার বা একক মাপ বলে। বিজ্ঞানের ছাত্র হইলে এইটা জলদি বুঝার কথা। যেমন চালের ওজন ১ কেজি বলি আমরা। কেজি এককটা বেশ ব্যাবহার উপযোগী তাই আমরা কেজি দিয়াই সচরাচর মাপি। কিন্তু এই কেজি আসলো কিভাবে? এইটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর জবাব খুঁজতে গিয়াই আমরা পাই গ্রাম। এবং সন্ধান কইরা দেখি ১ কেজির মধ্যে ১ হাজার গ্রাম লুকায়া আছে। অর্থাৎ অই গ্রামে গ্রামেই শেষমেশ মিলে আমগো সুবিধা জনক প্রায়োগিক একক কেজি। আর অই গ্রামই এই মাপের ক্ষুদ্রতম একক।

একই ভাবে মাত্রাও ছন্দের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতম একক। অর্থাৎ মাত্রার বিস্তার ও ব্যাবহারের মাধ্যমেই ছন্দ নির্মিত হয়। এবং তা কেবল ছড়ার ক্ষেত্রেই নয় বরং গান এমুনকি নাচের ক্ষেত্রেও সত্য। তবে জাইনা রাখা ভালো যে ছড়া বা কবিতার ছন্দে যা মাত্রা গান বা নাচের ছন্দে তা যথাক্রমে লয় ও মুদ্রা। এখন আমরা মাত্রার সংজ্ঞাটা ছন্দ-বান্ধব কইরা বলতে পারি- বর্ণ তথা একেকটি ধ্বনি চিহ্নের উচ্চারণ কালের পরিমাপ। আমগো অনেকের মনে আছে নিশ্চই ছোটবেলায় অক্ষর লেখার সময় তার উপ্রে একটা দাগ দিতে হইত। আরো মনে আছে দাগটা ঠিক অই অক্ষরের সমান দিতে হইত। এইটা যেন অক্ষরের মাপের একটা মাথাল বা ছাতি। আর আমরা সবাই জানি প্রতিটা বর্ণের (কয়েকটা ব্যতিক্রম বাদে) মাথায় দেয়া সেই দাগকে বলা হইত মাত্রা। তখন কি আর বুঝতাম সেই মাত্রা আসলে এই মাত্রাই।

যাক তখন না বুঝলেও এখন বুঝি। আসলে মোটা দাগে বাংলাছন্দে এক অক্ষরই এক মাত্রা। মাত্রা সম্পর্কে এইটা প্রাথমিক পাঠ। তয় এর কিছু ব্যতিক্রম আছে, সেই আলোচনা পরের স্লিপে। আপাতত এইটুক বলি মাত্রা চিনলে ছড়ায় মাত্রাজ্ঞান হারানোর ঝুঁকি প্রায় থাকেই না।

তিন ছন্দে দিন ছন্দে

আগের স্লিপে আলাপ করছি মাত্রা নিয়া। সেইখানে অনেক ছড়াকারই উদাহরণের অনুরোধ করছেন। হুম এই আলাপগুলাতে প্রসঙ্গক্রমে উদাহরণ আসবো। প্রথম স্লিপই তো তার সাক্ষী। কিন্তু মাত্রার আলোচনায় উদাহরণ অতো প্রাসঙ্গিক ছিল না। তয় মাত্রা সংক্রান্ত কতক দৃষ্টান্ত দেখাইছি। এইটা তো সত্যি যে উদাহরণ এর চাইতে দৃষ্টান্ত আরো বেশি কেজো। যাক ছন্দে না ঢুইকা আলাদাভাবে/আগেভাগে মাত্রার উদাহরণ খালি অপ্রাসঙ্গিক না বরং ঝুঁকিপূর্ণও। আর সেইটা এই ছন্দালাপ মন দিয়া খিয়াল করলেই বুঝা যাইব।

আগেই বলছি দুনিয়ায় সব কিছুতেই ছন্দ আছে। আর সেই ছন্দ, ছড়া কবিতা গানে নাচে একটু বিশেষভাবে আছে। ছন্দের এই বিশেষায়িত করণে ছন্দবিশারদ বা ছন্দবিদদের একটা ভূমিকা আছে। আর এই ছন্দবিদরাই বাংলা কবিতার ( ছন্দ সংক্রান্ত এই আলাপে ‘কবিতা’ বলতে আমরা ছড়া ও কবিতা উভয়কে বুঝুম) ৩টা ছন্দ চিহ্নিত করছেন। আলাপের এই জাগাটা তরুণ ছান্দসিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, বাংলা কবিতার মোট ৩টা ছন্দ। বিভিন্ন ছন্দবিশারদ এদেরকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করছেন। তয় নাম ভিন্ন হইলেও জিনিস অই একই। আমরা অপেক্ষাকৃত প্রচলিত নামে এই তিন ছন্দকে যথাক্রমে-
১। অক্ষর বৃত্ত
২।মাত্রা বৃত্ত
৩। স্বর বৃত্ত
এই তিন নামে ডাকি। মূলত বাংলা ছড়া কবিতার মধুময় সুরঝংকার এই তিন ছন্দেই রূপায়িত।

[চলতি কথনরীতিতে লেখা]

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme