লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
বৃষ্টির বৈচিত্রতা

বৃষ্টির বৈচিত্রতা


উম্মে হাবিবা আল মুস্তারি

বৃষ্টি! মিষ্টি একটি শব্দ। শব্দটি কানে আসতেই মধুময় ঝিরঝিরে হাওয়ার শীতল পরশের বৃষ্টির ছন্দ অনুভব হয়। রাব্বেকারীমের অপার রহমতের একটি হচ্ছে বৃষ্টি। বৃষ্টি শব্দটি মুখ থেকে নির্গত হতেই নয়নে ভেসে উঠে বর্ষাকালের দৃশ্য।
জৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদ্দুর প্রকৃতি থেকে শুরু করে মানব জীবনও হয়ে উঠে অতিষ্ট। আগুনের উত্তাপ থেকে দেহকে শীতল করার জন্য সবাই রবের কাছে বৃষ্টি কামনা করে।
বৈশাখ-জৈষ্ঠের আম-কাঠালের দিনে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়ে জানিয়ে দেয় বর্ষার আগমনী বার্তা।
শহরের চেয়ে পল্লীর বৃষ্টি খুব উপভোগ্য।
বিশাল নীলাকাশে খন্ড মেঘেরা কখনো বিদ্যুতের চমকে, কখনো গুড়ুম-গাড়ুম শব্দে কাতার বেঁধে সাজতে শুরু করে। তখনই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি।
বৃষ্টির দিনে আকাশ ফর্সা হয় না। এই মেঘ, এই বৃষ্টি। মাঝে মাঝে সাদা কালো মেঘের ফাঁক দিয়ে সুর্য্যিমামা উঁকি মারে। বৃষ্টি পরিবেশ আর মনোজগতকে একেবারে বদলে দেয়। শিশু-কিশোররা বৃষ্টিতে ভেজার জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। অঝোর ধারায় বৃষ্টিস্নাত হয় ধরিত্রী, রোদে ঝলসে যাওয়া গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে।
বৃষ্টির কারণে ফসলী খেতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দূর হয়, জমি হয় উর্বর। কৃষকরা দেখে নতুন স্বপ্ন। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও সুপারি কিংবা অন্যান্য গাছের ডাল বেয়ে ঝরে পড়া পানির ফোটার দৃশ্য অন্যরকম!
বর্ষাকালে নদীর দু’কূল ছাপিয়ে বৃষ্টির পানি গ্রামে প্রবেশ করে। চারিদিকের অথৈ জলে গ্রাম হয়ে উঠে একটা দ্বীপ। বৃষ্টির শান্ত পানিতে ভরা বিলে রাতের চিত্রটা দারুণ। দূরের আকাশে চাঁদ-তারার মিষ্টি আলো, মায়াবী জোছনা বিলের পানিতে ছায়া পড়ায় হয়ে উঠে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
বর্ষাকালে মাছে মাছে ভরা থাকে খাল-বিল। গ্রাম্য মানুষরা মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে ছুটাছুটি করে। জাল, বড়শি যে যা পারে তা দিয়েই মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠে।
বর্ষার প্রতীক কদম ফুলের কথা না বললে হয় না। হলুদ সাদা মিশ্রিত কদমের দৃষ্টিনন্দন হাসি সবাইকে আকৃষ্ট করে। বাতাসে ভেসে আসা কদম, কেয়া, শাপলার মধুর ঘ্রাণে হৃদয়ে জেগে উঠে বিচিত্র ভাবনা। কদম আর বৃষ্টি নিয়ে কবিরা রচনা করে কবিতা, শিল্পীরা গেয়ে যায় গান।
বৃষ্টি যেমন সুখ ও আনন্দ নিয়ে আসে তেমনি দুঃখও বয়ে আনে। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিগন্তে মেঘের সামান্যতম আভাস দেখলেও এই দোয়া পড়তেনঃ “হে আল্লাহ, এর মধ্যে যে অকল্যাণ রয়েছে আমি তা থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি”। 
বৃষ্টির পানিতে পল্লীর রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়। কোথাও বা ডুবে যায় পানির নিচে। ভেঙ্গে যায় ঘর-বাড়ি। চলাচলে হয় অসুবিধা। তখন গরীব দিন মজুরদের দুর্দশা বাড়ে। কাজ না থাকায় তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। 
শণের চাল, পুরাতন টিনের ছিদ্র ডিঙ্গিয়ে বৃষ্টির ফোটা ঘরের ভেতরের ঘুমানোর জায়গাটাও ভিজিয়ে দেয়। ফলে তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, এতে তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। তবুও বৃষ্টি সবার হৃদয়ে দিয়ে যায় আনন্দের দোলা।
গ্রীষ্মের দাবদাহে জর্জরিত প্রকৃতি বৃষ্টির আগমনে অবিরাম বৃষ্টিতে স্নান করে যেমন সজীব ও প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করে রুক্ষ প্রকৃতি মুহূর্তেই সিক্ত হয়ে ওঠে, তেমনি বৃষ্টির পানিতে আমাদের মনোজগতের অব্যক্ত যাতনা, হৃদয় মন্দিরে জমানো দুঃখ, ক্লান্তি, ক্লেশ-হতাশা, পাপের কলিমা ধুয়ে মুছে যাক। এই কামনা।

উখিয়া, কক্সবাজার

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ নবরঙ
Design BY NewsTheme