লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com

শিক্ষা

মাহিন মাহমুদ

একমাত্র ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছে, এক সিঁদেল চোর। ভর্তি করার কিছুদিন পর তার টেনশন শুরু হয়ে গেল। মাদ্রাসাপাশ করে ছেলেটা কী করে খাবে- এটাই তার টেনশনের মূল কারণ। তার চেয়ে বরং চুরিটা শিখে রাখলে কাজ হবে। ভবিষ্যতে কিছু একটা করে খেতে পারবে।

ভাবনাটা কাজে লাগাল সে। পরদিনই মাদ্রাসায় গিয়ে হাজির হল। হুজুরদের বলল,
: ছেলেকে আর পড়াব না।
: কেন?
: কী করে খাবে, ছেলে?
হুজুররা বোঝালেন- ‘রিজিক আল্লাহর জিম্মায়। আল্লাহ নিশ্চই আপনার ছেলের রিজিকের উত্তম ব্যবস্থা করবেন!’

এই কথায় কাজ হল না। চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী। সুতরাং, এই কাহিনী সে কানেই নিল না।

ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে এনে, এক অমাবস্যার রাত্তিরে ‘কাজে’ বের হল। সিঁদ কাটা শেষ করে ছেলেকে শুধাল,
: শোন, বাপ আমার! আমি এই ছিদ্র দিয়ে ঘরে ঢুকছি। তুই বাইরে দাঁড়িয়ে পাহাড়া দে। কেউ এলেই আস্তে করে বলবি- ‘আব্বা! দেখতেছে!’

সিঁদেল চোর সিঁদের ভেতর শরীরের অাধেকটা যেই-না ঢুকিয়েছে, অমনি ছেলে বাইরে থেকে বেশ শব্দ করে বলে উঠল,
: আব্বা! দেখতেছে!
শব্দ শুনে চমকে উঠে বের হয়ে এল সিঁদেল চোর। বের হয়েই, ছেলের হাত টেনে ধরে দিল ভোঁ দৌড়!

কিছুদূর গিয়ে যখন বুঝল, আশে পাশে কেউ ছিল না, বলল,
: কই রে বাপ! কারে দেইখা আওয়াজ দিলি? কে দেখতেছে?
ছেলে বলল,
: কোন মানুষে তো দেখতেছিল না, আব্বা!
: তাইলে? কে দেখতেছিল?
: ওই যে, উপরে একজন আছে। সে-তো দেখতেছে!

ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে আপ্লুত হয়ে, কেঁদে কেটে সিঁদেল চোর বলল,
: আমি গত দশ বছর ধরে মানুষের হক মেরে খাচ্ছি, কোনদিন ভাবি নাই আল্লাহ আমারে দেখতেছে, অার তুই দুইমাস মাদ্রাসায় পড়েই আল্লাহকে ভয় করা শিখে ফেলেছিস!?

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ নবরঙ
Design BY NewsTheme