লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
রিমঝিম বর্ষায় স্বাস্থ্য ভাবনা

রিমঝিম বর্ষায় স্বাস্থ্য ভাবনা

মোহাম্মদ রজ্জব আলী

ছোট্ট বন্ধুরা, এখন বর্ষাকাল। শৈশবের স্বাভাবিক দুরন্তপনা শিশুদের একটি সাধারণ গুণ। এই বয়স থেকেই শিশুরা সবকিছু সমান আগ্রহ নিয়ে জানতে এবং বুঝতে চায়। তাই বৃষ্টিতে ভিজতে চাওয়াটাও এমনই একটি ভালোগার বিষয়। কিন্তু, এই বর্ষাতে নানা অসুখ বাঁধতে পারে শরীরে। তাই, এসময় তোমাদের শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে।

শিশুদের রোগ প্রতিরোধশক্তি অনেকটা কম। তাই, যখনই একটু ঋতু পরিবর্তন হয়, বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও বেশি পরিমাণ ঠান্ডা, কাশি, রোগব্যাধি অনেক বেড়ে যায়। যেমন, অনেক ধরনের জ্বর হয়। এর মধ্যে, প্রধানত ভাইরাস জ্বর বেশি হয়। এরপর পাতলা পায়খানার প্রকোপ বেশি বেড়ে যায়।

এছাড়াও “হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ” নামক ভাইরাসজনিত রোগ হতে পারে। যা মূলত প্রকাশ পায়- কিছুদিন জ্বর থাকার পর হঠাৎ করে, লাল লাল, দানা দানা উঠার মাধ্যমে। বিশেষ করে হাতের তালু, হাতে, পায়ে। মনে হবে যে একটু রক্তক্ষরণের মতো হচ্ছে। আর জিহ্বার মধ্যে মুখের ভেতর গলার ভেতর, যেমন লাল লাল, পানি পানি ধরনের।

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক অবস্থায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও গলাব্যথা থাকলেও একটু অযত্নে এসব রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি টনসিলাইটিস ও নিউমোনিয়া হওয়ার ভয় থেকে যায়। ঠান্ডা, ভেজা আবহাওয়ায় জীবণুরা বেশি সচল থাকে এবং অধিক হারে বংশবিস্তার করতে পারে। তাই, বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেলে পরনের পোশাক সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে মাথা ও শরীর শুকনো তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছতে হবে।

বৃষ্টির পানি নিয়ে এবং স্যাঁতসেঁতে ভেজা স্থানে খেলা করা বাদ দিতে হবে। কারণ এতে ঠান্ডা লাগার এবং জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয়ে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

পানিবাহিত রোগ হতে বাঁচতে সবসময় ফুটানো পানি পান করার চেষ্টা করতে হবে। আর অবশ্যই হাতের নখ কেটে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এতে করে খাবার গ্রহনের সময় শরীরে জীবাণু প্রবেশের ঝুকি কমবে। ফলে টাইফয়েড, কৃমির সংক্রমণ ইত্যাদি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কৃমির প্রাদুর্ভাব কমাতে, কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করলে উত্তম হয়। 

এই বয়সে, বর্ষায় শুকনো জায়গা বাদ দিয়ে পানিতে পা দিয়ে হাঁটতেই বেশি আগ্রহ থাকে। এই অভ্যাস ত্যাগের চেষ্টা করতে হবে। বৃষ্টিতে জুতা ভিজিয়ে ফেললে ভেজা জুতা বেশিক্ষণ পায়ে রাখবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জুতা খুলে দিয়ে পা ভালো করে ধুয়ে-মুছে দ
নিবে। জুতা-মোজাও ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। একটু যত্নবান হলে বর্ষার বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও তোমরা থাকবে সুস্থ ও সতেজ।

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ নবরঙ
Design BY NewsTheme