লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com

ছড়াস্লিপ

জগলুল হায়দার

পর্ব-১

অন্তমিল কাহন

অন্তমিল ছড়ার প্রাণ। তয় জোর কইরা অন্তমিল দেয়ার প্রবণতা সেই প্রাণকে উজ্জীবিত না কইরা উলটা উৎপীড়িত করে। কথাটা আমগো সবারই মনে রাখা দরকার। তরুণ ছড়াকারদের একটু বেশিই মনে রাখা উচিত।

চমকদারি অন্তমিলের লোভ কামের নামে ছড়ায় এমুন আকাম ঘটায়। চমকদারি তথা ভাঙা অন্তমিলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন যে বেখিয়ালে যেন তা রিপিটেশনের দোষে দোষী না হয়। এই আশংকা তরুণদের ক্ষেত্রেই বেশি । এইটা প্লেজারিজমের মাধ্যমেও হইতে পারে আবার ন্যাচারালিও হইতে পারে। যেইভাবেই হোক আখেরে ব্যাপারটা ছড়াকারের জন্য সম্মানজনক কিম্বা সন্তোষজনক থাকে না। তাই তরুণ ছড়াকারদের অগ্রজদের লেখা পড়তে হইব যাতে সেইসব চমকদারি ইরেগুলার অন্তমিলের রিপিটেশন যথাসম্ভব এড়ান যায়। কারণ ‘চমৎকার/অমত কার’ অন্তমিল দেখলেই বিদগ্ধ সমালোচকের কাজী নজরুল এর কথা মনে হইব। ‘ব্রাকেটে/ব্রা কেটে’ দেখলে লুৎফর রহমান রিটন, ‘নিউমার্কেটে/টিউমার কেটে’ বললে ওবায়দুল গণি চন্দন, ‘ইন্তেকাল/ কিনতে কাল’ বললে মিজানুর রহমান শামীম, ‘ইসেনশিয়াল/ দিছেন শিয়াল’ বললে এই অধম জগলুল হায়দার কিম্বা ‘আজারবাইজান/হাজার ভাইজান’ বললে পলাশ মাহবুব নামগুলা ছড়া প্রেমিকদের মুখে চইলা আসবো প্রথমেই।

এইখানে কয়েকজন ছড়াকারের একটা কইরা স্যাম্পল দিলাম। এরম আরো অনেকের আছে। আমার নিজেরও এই জাতীয় অনেক অন্তমিল আছে। এইসবের এক-দুইটার রিপিটেশন একদমই হইতে পারবো না তাও বলতেছি না। তয় তা যেন ক্রনিক না হয়। ছড়া আগাক তরুণ ছড়াকারের ছন্দ-তালে।

ছন্দে পাতি কান

প্রথম ছড়াস্লিপে অন্তমিলকে ছড়ার প্রাণ বলছি। তাইলে ছন্দকে কি বলুম? ছন্দকে বরং ছড়ার অক্সিজেন বলি। অক্সিজেন ছাড়া যেমুন প্রাণ বাঁচে না তেমনি ছন্দ ছাড়াও ছড়া বাঁচে না। আসলে এইছাড়া তো ছড়া তৈরিই হইতে পারে না। ছন্দ সম্পর্কে অনেক মোটা মোটা কথা বা ধারণা আছে। এইসব ধারণায় সাধারণের মনে পণ্ডিতদের ভীতি ছড়ানোর একটা প্রবণতাও আছে। কিন্তু ছন্দ প্রকৃতিতে একবারে সহজাত। আমি দায়িত্ব নিয়া বলতেছি; ছন্দ খুবই সহজ। এই নিয়া ভয়ের কিছু নাই যুদিও কেউ কেউ এইটারে একটা ‘টাবু’ বানাইতে চেষ্টা করছে। আসলে প্রকৃতির সন্তান হিসাবে মানুষ জন্মেই এই ছন্দ পায়। আর বড় হইতে হইতে তার শ্রবণ এইটা আরো নিবিড়ভাবে আত্মস্থ করে।

ফলে ছন্দ নিয়া কেউ কি পড়তে পারি বললে; সচরাচর বইলা থাকি- কান খাড়া করো। তারপরও যারা নাছোড়বান্দা তারা বইয়ের নাম চায়। তাদের বলি, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘কবিতার ক্লাস’-এ একটু চোখ বুলাও। হুম বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে ছন্দ নিয়া অনেকেই লিখছেন কিন্তু নীরেন্দ্র বাবুর মতো এতো সহজ কইরা কেউ লিখছেন বইলা অন্তত আমার মনে হয় নাই।

পরবর্তী স্লিপে ছন্দ নিয়া আরেকটু বিস্তারিত আলোচনায় ঢুকুম তয় তার আগে আবার সেই কথাই প্রকৃতিতে কান পাতো। মোট কথা ছন্দ সন্ধানে কান খাড়া রাখো।

[ছড়াস্লিপ চলতি কথনরীতিতে লেখা]

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme