লেখা আহবান
প্রিয় লেখক বন্ধু, আপনার লেখা সবচেয়ে সুন্দর উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণকাহিনী, ফিচার, স্বাস্থ্য কথা ইত্যাদি পাঠিয়ে দিন এই মেইলে– noborongpotrika@gmail.com
আরিয়ান তার নাম- আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

আরিয়ান তার নাম- আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

আরিয়ান তার নাম
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

আরিয়ান নামের ছেলেটা একটু অন্যরকম। বয়সে ছোট হলেও সে অত্যন্ত বুদ্ধিমান। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে সে। আরিয়ান ক্লাসের সবচে ভালো ছাত্র না হলেও তার মাঝে রয়েছে অন্য এক প্রতিভা। খুব ছোট হলেও সে মানুষের কষ্ট বুঝতে পারে। একদিন সে ক্লাসে তার সমবয়সী একজনকে দেখতে পেলো। ছেলেটার নামও জানে আরিয়ান। হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে সেই ছেলেটার পাশে বসেছে। তারপর বললো,

‘মন খারাপ করে বসে আছো কেনো?’
বসে থাকা ছেলেটা উত্তর দিলো না।
আরিয়ান আবার জিজ্ঞেস করলো,
‘আমি তোমার বন্ধুর মতোই, তুমি আমাকে সবকিছু বলতে পারো’।

বসে থাকা ছেলেটি তখন মন খারাপ করে বললো, ‘আমি পেন্সিল আনতে ভুলে গেছি, আমার কাছে টাকাও নাই, একটু পরে টিচার আসবে, এখন আমি কী করবো!
আরিয়ান বুঝতে পারে পুরো বিষয়। সে দৌড় দিয়ে স্কুলের সামনে একটা দোকান ছিল সেখানে যায়, এবং একটি পেন্সিল কিনে তা ঐ ছেলেকে দিয়ে দেয়। ছেলেটি অনেক খুশি হয়ে আরিয়ানের সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়, আরিয়ানও সেই ছেলেটির সাথে বন্ধুত্ব করে। আরিয়ান এভাবেই স্কুলের সহপাঠীদের সাহায্য করে আর ঝগড়াঝাঁটি করে না কারো সাথে। সবার সাথে মিলেমিশে থাকে যার কারণে অন্য সকল ছেলে-মেয়ে আরিয়ানের খুব ভালো বন্ধু।

আরিয়ান প্রতিদিন স্কুলে যায়। স্কুল ফাঁকিবাজি করে না একদম। মায়ের কথা শুনে, সেজন্যই সে মায়ের কাছ থেকে প্রতিদিন চকোলেট পায়।দামিদামি চকোলেট। এভাবেই আরিয়ানের কাছে অনেকগুলো চকোলেট জমে গেছে। সে চকোলেট খেতে পছন্দ করে, তবে তার কাছে এক বয়ামের মতো চকোলেট আছে। একদিন সে তার বাসার বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে চকোলেট খেতে লাগলো। চকোলেট এনেছে তার আব্বু গতরাতে।
খেতে খেতে সে খেয়াল করলো নিচে একটা ছেলে মানুষের কাছে কাছে গিয়ে কিছু যেন চাইছে।

আরিয়ান মনোযোগ সহকারে দেখলো, ছেলেটির পরনে ছোট্ট হাফ প্যান্ট, আর এলোমেলো চুল, শরীরে ময়লা, মুখটা ভীষণ মলিন হয়ে আছে।
আরিয়ান দৌড়ে এসে তার চকোলেটের বয়ামটা নিয়ে নিচ তলায় চলে যায়। বয়ামটা পিছনে লুকিয়ে রেখে রাস্তায় ঘোরাফেরা করা ছেলেটাকে জোরে ডাক দেয়।

‘তোমার জামাকাপড় নেই?’
‘আমার জামাকাপড় নাই’
‘তুমি মানুষগুলোর কাছে কী চেয়েছিলে?’
‘টাকা’
‘দিয়েছে?’
‘নাহ্’
‘টাকা কেন চাইলে?’
‘পেটে খিদা লাগছে’
‘আমি তোমাকে কিছু দেবো, তুমি নিবে?’
‘কি দিবে?’
‘তোমাকে চকোলেট দেবো, পছন্দ করো তুমি? ‘
‘হ্যাঁ, চকোলেট আমার অনেক পছন্দ।

আরিয়ান ছেলেটিকে চকোলেটের বয়ামটা দিয়ে দেয়। আরিয়ানের এই কাজটা দেখে ফেলে তার আম্মু। তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে সব দেখে ফেলেছে।
আরিয়ান ভয়ে কাঁপছে। এটা কী সে ঠিক করেছে না বেঠিক সে বুঝতে পারছে না। তবে আরিয়ান তার আম্মুর কোলে উঠে বললো–

‘আমার আরো চকোলেট লাগবে’
অন্যদিকে আরিয়ানের এই ভালো কাজ দেখে তার মা খুব খুশি হয়ে গেলেন এবং পরেরদিন রাতেই দুই বয়াম চকোলেট এনে দিলেন।

আরিয়ানদের বাসা দোতলাবিশিষ্ট। দোতলাতে আরিয়ান থাকে। তাদের বাসার ঠিক পূর্ব পাশে কয়েকটা ঘর রয়েছে। সেখানে কিছু ছেলেমেয়ে খেলাধুলা করে। ঘরগুলো দেখতে কেমন জানি।
আরিয়ানদেন ঘর কতো সুন্দর এবং পরিপাটি।
সাজানো-গোছানো। তবে আরিয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। তার দুইটা ভালো বন্ধু আছে এখন। তবে তারা স্কুলে। স্কুল ছুটির পর বাকি দিনটা আরিয়ানের একা একা কাটে। তার কিছুই ভালো লাগে না, আরিয়ানের আম্মু ঘরের কাজ করতে ব্যস্ত থাকেন। তবে তাদের ঘরে একজন কাজের মেয়েও আছে। তারপরেও তার আম্মু ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করে। একদিন আরিয়ানদের ঘরে নতুন মেহমান এসেছে। একটা ছেলে, ঠিক আরিয়ানের মতোই, দেখতে তুলতুলে হলেও আরিয়ানের মতো পরিপাটি না। আরিয়ান তখন বসে বসে খেলনাপাতি নিয়ে খেলছিল।
রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, ট্রেন, আরো অনেক খেলনা তার কাছে আছে। ওদিকে যে ছেলেটা এসেছে সে ঘরের এক কোণায় চুপিসারে বসে আছে।

ছেলেটি আরিয়ানের কাছে আসতে চাইছে তবে ছেলেটির মা আসতে দিচ্ছেনা কেন জানি।
ছেলেটির মা আবার আরিয়ানদের বাসায় কাজ করেন। আরিয়ানের একা একা খেলতে ভালো লাগে না। সে ছেলেটার পাশে গিয়ে বলল–

‘তুমি আমার সাথে খেলবে?’
ছেলেটি তার মায়ের দিকে তাকালো, তার মা চোখ বড়বড় করে বললো,
‘যাবি না, তুই কিছু ভেঙে ফেললে ওর মা বকা দিবে’
ছেলেটি বুঝতে পেরে আরিয়ানের সাথে যায়নি খেলতে। আরিয়ান একপ্রকার জোরপূর্বক ছেলেটিকে নিয়ে গেলো। তারপর দুজনে অনেক খেললো, ছেলেটি কোনোদিন রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি দেখেনি, প্রথমবার এমন অদ্ভুত গাড়ি দেখে ভীষণ খুশি। দুজনেই ভীষণ খুশি। আরিয়ানের সাথে অল্প সময়েই ছেলেটার বন্ধুত্ব হয়ে গেলো।

আরিয়ান পাশের ঘর থেকে তার মাকে ডেকে আনলো। তারপর সে নিজের ঘরে গিয়ে কিছু ভাঙা খেলনা ছিল সেগুলো একটা পলিথিনে ভরে ছেলেটাকে দিয়ে দিলো। ছেলেটা অনেক খুশি।
খুশিতে তার ঠোঁটে এক চিলতে হাসি। ছেলেটার মা তিনিও খুশি। আরিয়ানের মা আরিয়ানের এই আচরণ দেখে তাকে নিয়ে গর্ববোধ করলেন। এভাবেই আরিয়ান নামক ছোট্ট ছেলেটি সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতো আর সবার ভালো বন্ধু হতো।

দয়াকরে লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮-২০১৯ নবরঙ
Design BY NewsTheme